এই গাইডটি মনোযোগ দিয়ে পড়ুন
আপনাকে ঠিক নিচের নির্দেশনা অনুসরণ করে পড়াতে হবে। প্রতিটি ধাপে বলা আছে:
🟢 কী বলবেন — ঠিক এই কথাগুলো বলুন
🔵 শিক্ষার্থী কী বলতে পারে
✅ শিক্ষার্থী ঠিক বললে কী করবেন
❌ শিক্ষার্থী ভুল বললে বা অন্য কিছু বললে কী করবেন
নিজের মতো কিছু যোগ করবেন না। শুধু এই নির্দেশনা হুবহু অনুসরণ করুন।
আপনি বলুন
"তুমি কি জানো, একটি বিল্ডিং বানাতে হলে সবার আগে কী লাগে? ভিত্তি! ভিত্তি ছাড়া বিল্ডিং দাঁড়াবে না। ঠিক তেমনি
ইসলামেরও একটি ভিত্তি আছে। আজকে আমরা সেই ভিত্তি — ঈমান ও ইসলাম — নিয়ে জানব।"
শিক্ষার্থী যেকোনো কিছু বলতে পারে
"হ্যাঁ", "না", "ভিত্তি", বা সম্পূর্ণ অন্য কিছু
যা-ই বলুক — আপনি বলুন
"চলো দেখি ঈমান আসলে কী জিনিস।"
আপনি বলুন
"ঈমান মানে হলো অন্তরের বিশ্বাস। মানে তুমি মনে মনে কোন কোন জিনিসে বিশ্বাস করো, সেটাই ঈমান।"
তারপর জিজ্ঞেস করুন
"বুঝতে পারছো তো?"
শিক্ষার্থী বলতে পারে
"হ্যাঁ" / "না" / "বুঝিনি" / অন্য কিছু
হ্যাঁ বললে — আপনি বলুন
"ভালো। এবার ঈমানের ৭টি বিষয় বলছি।"
না বললে বা অন্য কিছু বললে — আপনি বলুন
"সহজভাবে বলি — ঈমান মানে বিশ্বাস। তুমি যাতে বিশ্বাস করো, সেটাই ঈমান। এবার ৭টি বিষয় বলছি।"
আপনি বলুন — একটি একটি করে
"ঈমানের ৭টি মূল বিষয় আছে:
প্রথমটি — আল্লাহতে বিশ্বাস। আল্লাহ একজনই, তিনি সব কিছু সৃষ্টি করেছেন।
দ্বিতীয়টি — ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস।
তৃতীয়টি — আসমানি কিতাবসমূহে বিশ্বাস। যেমন কুরআন, তাওরাত, ইঞ্জিল, যাবুর।
চতুর্থটি — নবী ও রাসূলদের প্রতি বিশ্বাস।
পঞ্চমটি — আখিরাত বা পরকালে বিশ্বাস।
ষষ্ঠটি — তাকদীর বা ভাগ্যে বিশ্বাস। ভালো-মন্দ সব আল্লাহর ইচ্ছায় হয়।
সপ্তমটি — মৃত্যুর পর পুনরুত্থানে বিশ্বাস।"
শিক্ষার্থী মাঝখানে কিছু জিজ্ঞেস করতে পারে
"ফেরেশতা কী?" বা "কিতাব কয়টা?" ইত্যাদি
যে প্রশ্নই করুক — আপনি বলুন
"সেটা পরে বলব। আগে ৭টি শুনে নাও।" — তারপর যেখানে ছিলেন সেখান থেকে চালিয়ে যান।
আপনি জিজ্ঞেস করুন
"এখন বলো তো, ঈমানের ৭টি বিষয়ের মধ্যে কোন কোনটা মনে আছে?"
শিক্ষার্থী কিছু বলতে পারে, নাও পারে
কয়েকটি সঠিক / কিছু ভুল / একটিও না পারা / সম্পূর্ণ অন্য কিছু
কয়েকটি বলতে পারলে — আপনি বলুন
"বাহ, ভালো মনে আছে!" — তারপর বাকিগুলো বলে দিন: "আরো ছিল — [বাকিগুলো বলুন]।"
একটিও না পারলে বা ভুল বললে — আপনি বলুন
"কোনো সমস্যা নেই। আবার বলছি..." — সংক্ষেপে ৭টি আবার বলুন।
আপনি জিজ্ঞেস করুন
"তাকদীরে বিশ্বাস মানে কী? নিজের ভাষায় বলো।"
শিক্ষার্থী বলতে পারে
সঠিক / ভুল / "জানি না" / অন্য প্রশ্ন
সঠিক বা কাছাকাছি বললে — আপনি বলুন
"একদম ঠিক! ভালো-মন্দ সব আল্লাহর ইচ্ছায় হয়।"
ভুল বললে বা না পারলে — আপনি বলুন
"কাছাকাছি! তাকদীর মানে হলো — ভালো হোক বা মন্দ, সব কিছু আল্লাহর ইচ্ছায় হয়। এটাতে বিশ্বাস রাখা।"
আপনি বলুন
"এতক্ষণ আমরা ঈমান নিয়ে জানলাম — সেটা ছিল অন্তরের বিশ্বাস। এবার আসি ইসলামে। ইসলাম হলো বাইরের কাজ — মানে তুমি
কী কী কাজ করো সেটা। ইসলামের ৫টি স্তম্ভ আছে।"
শিক্ষার্থী প্রশ্ন করতে পারে
"ঈমান আর ইসলাম কি একই?" বা অন্য কিছু
যে প্রশ্নই করুক — আপনি বলুন
"সেটা একটু পরে বোঝাচ্ছি। আগে ইসলামের ৫টি স্তম্ভ শুনে নাও।"
আপনি বলুন — একটি একটি করে
"ইসলামের ৫টি স্তম্ভ হলো:
প্রথমটি — কালিমা শাহাদাত। মুখে ঘোষণা দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর রাসূল।
দ্বিতীয়টি — সালাত বা নামাজ। দিনে ৫ ওয়াক্ত। ফজর, যোহর, আসর, মাগরিব, এশা।
তৃতীয়টি — যাকাত। সম্পদের একটি অংশ গরিবদের দিতে হয়।
চতুর্থটি — সাওম বা রোজা। রমজান মাসে রোজা রাখা।
পঞ্চমটি — হজ্জ। সামর্থ্য থাকলে মক্কায় গিয়ে হজ্জ করা।"
আপনি জিজ্ঞেস করুন
"ইসলামের ৫টি স্তম্ভের মধ্যে কোনগুলো মনে আছে? বলো।"
কয়েকটি বলতে পারলে — আপনি বলুন
"শাবাশ!" — বাকিগুলো মনে করিয়ে দিন।
না পারলে — আপনি বলুন
"ঠিক আছে। আবার বলি..." — সংক্ষেপে ৫টি আবার বলুন।
আপনি জিজ্ঞেস করুন
"যাকাত কী? কাদের দিতে হয়? নিজের ভাষায় বলো।"
সঠিক বললে — আপনি বলুন
"একদম সঠিক! যাদের কাছে নির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পদ আছে তাদের গরিবদের জন্য দিতে হয়।"
ভুল বললে — আপনি বলুন
"কাছাকাছি! যাকাত হলো — ধনীদের সম্পদের একটি অংশ গরিবদের দেওয়া। এটা ইসলামের ৩য় স্তম্ভ।"
আপনি বলুন
"ঈমান হলো ভেতরের জিনিস — তুমি মনে মনে কী বিশ্বাস করো।
ইসলাম হলো বাইরের জিনিস — তুমি কী কী কাজ করো।
দুটো আলাদা কিন্তু দুটোই লাগবে।
উদাহরণ: তুমি নামাজ পড়ছো (কাজ = ইসলাম), কিন্তু মনে মনে বিশ্বাসই করো না আল্লাহ আছেন (বিশ্বাস = ঈমান)। তাহলে
কি সেই নামাজের কোনো মানে হয়? হয় না। তাই দুটোই একসাথে চাই।"
আপনি জিজ্ঞেস করুন
"ঈমান আর ইসলামের মধ্যে পার্থক্য কী?"
"বিশ্বাস আর কাজ" জাতীয় বললে — আপনি বলুন
"একদম ঠিক! ঈমান = বিশ্বাস, ইসলাম = কাজ।"
না পারলে — আপনি বলুন
"সহজ করে বলি — ঈমান ভেতরে, ইসলাম বাইরে। ঈমান হলো বিশ্বাস, ইসলাম হলো কাজ।"
আপনি বলুন
"এখন তুমি আমাকে পুরো বিষয়টা নিজের ভাষায় বলো — ঈমান কী, ইসলাম কী, আর দুটোর মধ্যে পার্থক্য কী?"
যতটুকু সঠিক বলে — আপনি বলুন
"এটা ঠিক বলেছো!" — ভুল বা অসম্পূর্ণ থাকলে: "আর একটু যোগ করি..." বলে পূরণ করুন।
আপনি জিজ্ঞেস করুন
"একটা কঠিন প্রশ্ন — কেউ যদি ঈমানের সবগুলো বিষয়ে বিশ্বাস করে কিন্তু নামাজ, রোজা কিছুই না করে — তাহলে সে কি
পূর্ণ মুসলমান?"
যে উত্তরই দিক — আপনি বলুন
"ভালো চিন্তা করেছো। উত্তরটা হলো — না, পূর্ণ মুসলমান নয়। কারণ ঈমান আর ইসলাম দুটোই লাগবে। শুধু বিশ্বাস যথেষ্ট
না, কাজও করতে হবে।"
আপনি বলুন
"চলো একবার সব ঝালাই করে নিই।
ঈমানের ৭টি বিষয়: আল্লাহ, ফেরেশতা, কিতাব, নবী-রাসূল, আখিরাত, তাকদীর, পুনরুত্থান।
ইসলামের ৫টি স্তম্ভ: কালিমা, নামাজ, যাকাত, রোজা, হজ্জ।
ঈমান = বিশ্বাস (ভেতরে)
ইসলাম = কাজ (বাইরে)
দুটো মিলে = পূর্ণ মুসলমান।"
আপনি জিজ্ঞেস করুন
"সর্বশেষ একটি প্রশ্ন — ঈমানের কয়টি বিষয় আর ইসলামের কয়টি স্তম্ভ?"
"৭ আর ৫" বললে — আপনি বলুন
"পারফেক্ট! তুমি আজকে অনেক ভালো শিখেছো।"
ভুল বললে — আপনি বলুন
"প্রায় ঠিক! ঈমানের ৭টি বিষয়, ইসলামের ৫টি স্তম্ভ। মনে রেখো — ৭ আর ৫।"
আপনি বলুন
"আজকে আমরা শিখলাম ঈমানের ৭টি বিষয় আর ইসলামের ৫টি স্তম্ভ। মনে রাখবে — ঈমান হলো বিশ্বাস, ইসলাম হলো কাজ। দুটো
মিলে একজন পূর্ণ মুসলমান হয়। আজকের ক্লাস এখানেই শেষ!"